ডেস্ক নিউজ:পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশের একটি পর্যটন এলাকা। এখানকার মানুষ তাদের সন্তানের মতো এ প্রকৃতিকে রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ সবসময় চেষ্টা করে। প্রকৃতির টানে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখার জন্য শুধু সারা বাংলাদেশ থেকে নয়, পুরোবিশ্ব থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ছুটে আসে। কিন্তু কিছু দুচক্রি মহল, ভূমিদস্যু পাহাড়ের প্রকৃতিকে, প্রকৃতির অপার লীলাভূমিকে নানাভাবে ধ্ংস করছে।
মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টায় পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীণ ভয়েসের উদ্যোগে খাগড়াছড়িতে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ও নির্বিচারে পাহাড় কাটা বন্ধের দাবিতে এবং চেংগী-সাঙ্গু ও কর্ণফুলী নদীসহ সকল নদী দখল দূষণমুক্ত ও নদী রক্ষা হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ছাত্র-যুব সমাবেশে গ্রীন ভয়েস কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা পরিবেশ নিয়ে কাজ করি। এদেশের পাহাড়ের মানুষের সাথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সম্পর্ক রয়েছে। পাহাড়ের মানুষ জানে প্রাকৃতিককে কিভাবে রক্ষা করতে হয়, বনটাকে কিভাবে রক্ষা করতে হয়, পাহাড়কে কিভাবে রক্ষা করতে হয়, এখানকার মানুষ ভালো করে জানে-তা আমরা সবসময় দেখি আসছি। কিন্তু আমরা দেখি, কিছূ প্রকৃত ভূমিদস্যু পাহাড়ে পাহাড় ও প্রকৃতির আবহাওয়াকে উপভোগ করতে এসে, কিন্ত আমরা দেখি, পাহাড় কেটে ভোগ বিলাসের জন্য ফাইভ স্টার হোটেল বানাতে চাই। কিন্তু ফাইভ স্টার হোটেল বানানোর জন্য পার্বত্য অঞ্চল না। বান্দরবানে ফাইভ স্টার হোটেল করার জন্য হাজার হাজার একর পাহাড় পয়তারা চলছিল। এখানে পাহাড়ের মানুষ জানে পাহাড়কে কিভাবে রক্ষা করতে হয়। নদীর তীরের মানুষ জানে নদীকে কিভাবে রক্ষা করতে হয়। তাদেরকে তাদের হাতে ছেড়ে দিন। তারা জানে, তারা প্রকৃতির বেড়ে উঠেছে, প্রকৃতির মাঝে তাদের বসবাস, তারাই জানবে- প্রকৃতিকে কিভাবে রক্ষা করতে হবে। নিজের ব্যক্তি স্বার্থ, অর্থ কামানোর জন্য, লোভ-লালসার জন্য প্রকৃতির পরিবেশ দূষিত করবেন না। যারা বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে পাহাড়ের প্রকৃতির লীলাভূমি দেখতে আসে, আপনারা পাহাড়ের অপরূপ প্রকৃতিকে নষ্ট করবেন না। অবৈধভাবে পাহা পাহাড়ের প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য পাহাড়ের মানুষকে এগিয়ে আসার জ জানান তিনি।
গ্রীণ ভয়েসের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক সাচিনু মারমার সভাপতিত্বে ও খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি চারু বিকাশ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গ্রীণ ভয়েসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা শারমিন এনি, ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শাখার সভাপতি ফাউমিদা নাজনিম, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য ক্যাচিং মারমা প্রমুখ। এসময় সমাবেশে গ্রীণ ভয়েসের কেন্দ্রীয় কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা, খাগড়াছড়ি জেলা-উপজেলার প্রতিনিধি অংশ নেন।
সমাপনী বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক সাচিনু মারমা বলেন, পর্যটনকে উন্নয়ন করতে পারবেন। কিন্তু পর্যটন করার নামে প্রকৃতির পরিবেশ রক্ষা করা যাবে না। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোনভাবেই উন্নয়ন করা যাবে না। যে উন্নয়ন করতে যাবেন, সেটা যাতে সেখানকার পরিবেশের সাথে টেকসই হই। যারা উন্নয়নের নামে পাহাড়ের পরিবেশ নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি। প্রকৃতির পরিবেশ নষ্ট করে উন্নয়ন কোন দিন পাহাড়ের মানুষ মেনে নেবে না। এরকম হলে গ্রীণ ভয়েস (পরিবেশবাদী যুব সংগঠন) কোনদিন বসে থাকবে না। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলারও কথা জানান তিনি।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি